রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত — জেনে নিন বিস্তারিত

 রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে ‘গ্রহণযোগ্য’ একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

keywords: জামায়াত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী, ১১ দলীয় ঐক্য, শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬, বিএনপি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

slug: jamaat-grohonjogy-prarthi-rashtropoti-nirbachon

---


# রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় — আসন্ন **রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে** অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে **বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী**। দলটি এককভাবে প্রার্থী না দিয়ে বিরোধী শিবিরের বৃহত্তর ঐক্যের মধ্য দিয়ে একজন **‘গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী** সামনে আনার কৌশল নিয়েছে, যা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।


## জামায়াতের সিদ্ধান্ত যেভাবে এলো


গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা **শফিকুর রহমান**। উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা।


দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় — জামায়াত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে দলটি চাইছে এমন একজন প্রার্থী, যাকে নিয়ে বিরোধী শিবিরে বিভক্তি না হয়ে বরং বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।


## ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে প্রার্থী


জামায়াত এককভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করছে না। বরং জামায়াত নেতৃত্বাধীন **১১ দলীয় ঐক্যের** শরিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি শীর্ষ বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হতে পারে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য একটাই — বিরোধী ভোট বিভক্ত না করে একজন সর্বজনগ্রাহ্য মুখকে সামনে আনা।


একই বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত চলমান কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।


## নির্বাচনের প্রেক্ষাপট


এই রাজনৈতিক তৎপরতার পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট:


- গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি **মো. সাহাবুদ্দিন** পদত্যাগ করেন।

- সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

- নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে এবং ভোটগ্রহণের তারিখ ধার্য হয়েছে **২০ আগস্ট**।


## বিএনপির অবস্থান কী


অন্যদিকে ক্ষমতাসীন **বিএনপির** সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি গত ১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী **তারেক রহমানের** ওপর ন্যস্ত করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের মহাসচিব **মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর**। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও রাজনৈতিক মহলে ভেসে বেড়াচ্ছে।


## কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ‘গ্রহণযোগ্যতা’র প্রশ্ন


বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও, এবারের নির্বাচন হচ্ছে এমন একটি পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও আস্থা তৈরি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াতের এই ‘গ্রহণযোগ্য প্রার্থী’ কৌশল আসলে বার্তা দিচ্ছে যে দলটি এককেন্দ্রিকতার বদলে জোটভিত্তিক ঐকমত্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে — যা আগামী দিনের বৃহত্তর জাতীয় নির্বাচনী রাজনীতির জন্যও একটি ইঙ্গিতবাহী পদক্ষেপ হতে পারে।


## এরপর কী


১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের সিদ্ধান্তই স্পষ্ট করবে বিরোধী শিবিরের যৌথ প্রার্থী আসলে কে হচ্ছেন। ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।


---


*এই প্রতিবেদনটি সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। নতুন কোনো ঘোষণা বা আপডেট এলে তা এই পোস্টে যুক্ত করা যেতে পারে।*


Post a Comment

Previous Post Next Post

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news