আসিফ মাহমুদ বি এন পি তে নয় গন অধিকার পরিষদে যোগ দিচ্ছেন
আসিফ মাহমুদের নতুন রাজনৈতিক গন্তব্য: গন অধিকার পরিষদে যোগদানের আলোচনা তুঙ্গে
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং তরুণদের মাঝে পরিচিত মুখ আসিফ মাহমুদ সম্প্রতি পদত্যাগের পর নতুন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কার ও তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আসিফ এবার বিএনপিতে নয়, বরং গন অধিকার পরিষদে যোগ দিতে পারেন— এমন জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
গন অধিকার পরিষদের নেতাদের বক্তব্য
দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তাদের ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তাদের দাবি, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তরুণ ও বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দৃঢ় করার লক্ষ্যেই আসিফকে দলে আনতে আগ্রহী গন অধিকার পরিষদ।
সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন—
“দেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় দক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ তরুণ নেতাদের প্রয়োজন। আসিফ মাহমুদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং তিনি মতাদর্শগতভাবে আমাদের খুব কাছাকাছি।”
তবে তারা একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করেছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণই আসিফের নিজের।
আসিফ মাহমুদের অবস্থান এখনো পরিস্কার নয়
পদত্যাগের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার পরও আসিফ এখনো তার পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তিনি কয়েকটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কথা বলছেন এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে “তরুণ নেতৃত্ব, গণস্বার্থের রাজনীতি ও নির্বাচনী সংস্কার” নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। গন অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে এই চিন্তার মিল থাকায় সে দিকেই তার ঝোঁক বেশি— এমন ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বিএনপিতে যোগ না দেওয়ার কারণ
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা রটনায় বলা হয় তিনি বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী বড় দলগুলোর সঙ্গে মতাদর্শগত দূরত্বের কারণে তিনি বিএনপিতে যোগদানকে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাননি।
তার ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম চান যেখানে তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা, গণআন্দোলনের চেতনা এবং বিকল্প রাজনীতির ধারা একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি?
আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ রাখেন। তার সম্ভাব্য দলীয় পরিচয় নিশ্চিত হলে কোন আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেটি পরবর্তীতে ঘোষণা হতে পারে। গন অধিকার পরিষদ চাইছে তাকে রাজধানী বা বড় শহরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন দিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণমুখী তৃতীয় ধারা রাজনীতিতে যদি আসিফ মাহমুদ যুক্ত হন, তাহলে তা গন অধিকার পরিষদের সংগঠন সম্প্রসারণ ও ভোটব্যাংকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা মনে করেন—
“পদত্যাগের পর তার জনপ্রিয়তা ও আলোচনার মাত্রা যেভাবে বেড়েছে, তা যে কোনো দলের জন্য সুবিধা এনে দিতে পারে।”
