ঢাকার কোন আসনে কে বি এন পির নমিনেশন পেলেন

 ঢাকার কোন আসনে কে বি এন পির নমিনেশন পেলেন


ঢাকার কোন আসনে কে বিএনপির নমিনেশন পেলেন — 

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধীরে ধীরে সারা দেশের মতো ঢাকার আসনগুলোতেও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। একাধিক দফায় আলোচনার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজধানীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে পরিচিত, জনপ্রিয় ও সংগঠনের জন্য সক্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেয়।

ঢাকা শহর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভোটার সংখ্যা বেশি এবং প্রতিটি আসনই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কৌশলগত মূল্য বহন করে। তাই বিএনপি এবার এমন প্রার্থী বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছে যারা নিজেদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন শক্তিশালী করেছেন এবং জনসংযোগে সক্রিয় ছিলেন।

নিচে ঢাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো।


ঢাকা-১ (দোহার–নবাবগঞ্জ)

এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন খন্দকার আবু আশফাক। তিনি বহুদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং স্থানীয়ভাবে সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এলাকার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।


ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ)

নমিনেশন পেয়েছেন আমানউল্লাহ আমান। বিএনপির জাতীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত মুখ এবং স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে বিবেচিত। বহু বছর ধরে কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যক্রমে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।


ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ–দক্ষিণ)

এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এলাকাভিত্তিক জনসংযোগও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী।


ঢাকা-৪ (শ্যামপুর–কদমতলী)

নমিনেশন পেয়েছেন তরুণ নেতা তানভীর আহমেদ রবিন। তরুণদের সমর্থন অর্জনে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


ঢাকা-৫ (রামপুরা–বাড্ডা)

এখানে প্রার্থী হয়েছেন নবিউল্লাহ নবী। তিনি সংগঠনের একজন পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত এবং রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।


ঢাকা-৬ (সবুজবাগ–মতিঝিল)

এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি ঢাকার তরুণ ভোটারদের কাছে বেশ পরিচিত এবং আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল।


ঢাকা-৮ (শাহজাহানপুর–সবুজবাগ অংশ)

নমিনেশন পেয়েছেন মির্জা আব্বাস। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে তিনি ঢাকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী। তৃণমূল পর্যায়ে তার একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে।


ঢাকা-১১ (মিরপুর–পল্লবী অংশ)

এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন এম এ কাইয়ুম। মিরপুর এলাকায় দলীয় রাজনীতির সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত এবং স্থানীয়ভাবে তার জনসম্পৃক্ততা রয়েছে।


ঢাকা-১২ (মিরপুর অংশ)

নমিনেশন পেয়েছেন সাইফুল আলম নিরব। তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন এবং দলের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।


ঢাকা-১৪ (মিরপুর–আশুলিয়া সংলগ্ন এলাকা)

এখানে প্রার্থী হয়েছেন সাঞ্জিদা ইসলাম তুলি। তিনি দলের মহিলা নেতৃত্বের মধ্য থেকে উঠে আসা একজন সক্রিয় কর্মী।


ঢাকা-১৫ (কাজীপাড়া–ইসলামপুর)

মনোনয়ন পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে যুক্ত এবং সংগঠনিকভাবে সক্রিয়।


ঢাকা-১৬ (পল্লবী–রূপনগর)

এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন আমিনুল হক। তিনি এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক কাজে দীর্ঘদিন যুক্ত আছেন।


ঢাকা-১৯ (সাভার)

এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। সাভারের তৃণমূল রাজনীতিতে তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।


সার্বিক বিশ্লেষণ

ঢাকা শহরের রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হওয়ায় বিএনপি এবার প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে—

  1. জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা

  2. তৃণমূলের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক

  3. রাজপথে সক্রিয়তা ও দলীয় আনুগত্য

এর ফলে এবার ঢাকার আসনগুলোতে দল অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখও দিয়েছে, যাতে তরুণ ও বৃহৎ ভোটারগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করা যায়।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news