হাদীকে গুলি বর্ষণ মামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ড মন্জুর
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঘটনার দিন হঠাৎ করে হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যেই গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মোটরসাইকেল শনাক্ত ও মালিক গ্রেফতার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেলের মালিকের অবস্থান নিশ্চিত করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন কি না, নাকি পরিকল্পনায় সহযোগিতা করেছেন—তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
আদালতে হাজির ও রিমান্ড আবেদন
গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, এ ঘটনায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। অস্ত্রের উৎস, মোটরসাইকেল ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে—
হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা
মোটরসাইকেলটি হামলার আগে ও পরে কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে
অস্ত্র সংগ্রহের উৎস ও সরবরাহকারী
হামলার পেছনে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা রাজনৈতিক/ব্যক্তিগত বিরোধ আছে কি না
ঘটনায় আরও কেউ সহযোগিতা করেছে কি না
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “হাদীকে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামির কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছি। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে অগ্রগতি হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন, তবে দ্রুত ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি নিয়মিত তদন্তের আওতায় রয়েছে। রিমান্ড শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন আসামি গ্রেফতার এবং মামলার ধারা সংশোধন করা হতে পারে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশাবাদী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তদন্ত সম্পন্ন হলে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
..jpg)