সিভি বানানোর নিয়ম
সিভি বানানোর নিয়ম – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড
আজকের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে একটি সুন্দর, পেশাদার এবং আকর্ষণীয় সিভি (CV – Curriculum Vitae) আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয়পত্র। নিয়োগদাতারা সাধারণত প্রথম ৮–১২ সেকেন্ড সিভি স্ক্যান করেন। তাই একটি সঠিকভাবে তৈরি সিভি আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই লেখায় সিভি বানানোর সম্পূর্ণ নিয়ম, কাঠামো, কী লিখবেন–কী লিখবেন না, সিভিতে ভুল এড়ানোর উপায়—সব কিছু বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
সিভি আসলে কী?
সিভি হলো আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সংক্ষিপ্ত পেশাদার সারমর্ম। এটি চাকরিদাতার কাছে আপনার পরিচয় তুলে ধরে এবং জানায় আপনি কতটা যোগ্য।
সিভি বানানোর ধাপ ও কাঠামো
নিচে একটি স্ট্যান্ডার্ড ও পেশাদার সিভির পূর্ণ কাঠামো দেওয়া হলো—
১. হেডলাইন ও ব্যক্তিগত তথ্য
সিভির প্রথম লাইনটিই নিয়োগদাতার চোখে পড়ে, তাই শুরু অংশটি হতে হবে পরিষ্কার ও পেশাদার।
যা লিখতে হবে—
-
পূর্ণ নাম
-
মোবাইল নম্বর
-
পেশাদার ই-মেইল (যেমন: azizul101@gmail.com)
-
বর্তমান ঠিকানা
-
LinkedIn/Portfolio লিংক (যদি থাকে)
যা লিখবেন না—
-
বাবা–মায়ের নাম
-
ধর্ম
-
অপ্রয়োজনীয় লোকেশন
-
অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য
২. ক্যারিয়ার অবজেকটিভ (Career Objective)
এটি ২–৩ লাইনের একটি প্যারাগ্রাফ হবে, যেখানে আপনি জানাবেন—
-
আপনি কী ধরনের চাকরি খুঁজছেন
-
আপনার দক্ষতা কীভাবে প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগবে
-
আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য কী
উদাহরণ:
“একজন দায়িত্বশীল ও লক্ষ্যনির্ভর প্রফেশনাল হিসেবে ডেটা এন্ট্রি এবং অফিস অ্যাডমিন কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। দ্রুত শেখার ক্ষমতা ও টিমওয়ার্ক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী।”
৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education)
এখানে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ডিগ্রি প্রথমে লিখবেন।
ফরম্যাট:
-
ডিগ্রির নাম
-
প্রতিষ্ঠান
-
বিষয়
-
পাশের বছর
-
রেজাল্ট (ইচ্ছা অনুযায়ী)
4. কাজের অভিজ্ঞতা (Experience)
যদি চাকরির অভিজ্ঞতা থাকে, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যা লিখবেন—
-
প্রতিষ্ঠানের নাম
-
পদবি
-
কাজের সময়কাল
-
দায়িত্ব ও অর্জন (Bullet points আকারে)
উদাহরণ:
-
ডেটা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ৫,০০০+ এন্ট্রি সম্পন্ন
-
কাস্টমার সাপোর্টে দৈনিক ৩০–৫০ গ্রাহককে সহায়তা প্রদান
অভিজ্ঞতা না থাকলে কী করবেন?
-
ইন্টার্নশিপ
-
প্রজেক্ট
-
স্বেচ্ছাসেবী কাজ
-
কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট
এসব তুলে ধরবেন।
৫. দক্ষতা (Skills)
এই অংশটি নিয়োগদাতারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
দুটি ভাগে লিখুন—
টেকনিক্যাল স্কিল:
-
MS Word, Excel
-
Graphic Design (Photoshop/Canva)
-
Digital Marketing
-
Web Design
-
Typing Speed etc.
সফট স্কিল:
-
যোগাযোগ দক্ষতা
-
টিমওয়ার্ক
-
সময় ব্যবস্থাপনা
-
সমস্যা সমাধান
৬. ট্রেনিং ও সার্টিফিকেট (Training & Certification)
যদি করতে পারেন, অবশ্যই যোগ করুন—
-
কম্পিউটার কোর্স
-
ডিজিটাল মার্কেটিং
-
পেশাদার ট্রেনিং
-
অনলাইন সার্টিফিকেট (Coursera, Google, LinkedIn Learning)
এগুলো সিভিকে শক্তিশালী করে।
৭. ভাষাগত দক্ষতা (Language Proficiency)
যেমন—
-
বাংলা – সাবলীল
-
ইংরেজি – ভালো
-
হিন্দি – বুঝতে পারি
৮. ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Details)
-
জন্মতারিখ
-
লিঙ্গ
-
জাতীয়তা
অতিরিক্ত কিছু লিখবেন না।
৯. রেফারেন্স (Reference)
সাধারণত একজন শিক্ষাগত/পেশাগত ব্যক্তিকে রেফারেন্স দেওয়া হয়।
উদাহরণ:
Name: Md. Kamal Hossain
Designation: Lecturer, Department of Business
Phone: 01XXXXXXXXX
Email: example@gmail.com
যদি রেফারেন্স না থাকে → “Available upon request” লিখতে পারেন।
সিভি লেখার সময় যে ভুলগুলো কখনো করবেন না
❌ ভুল ১: বানান ভুল
সিভিতে বানান ভুল থাকা মানে চাকরির সম্ভাবনা অর্ধেক কমে যাওয়া।
❌ ভুল ২: ৩–৪ পৃষ্ঠা লম্বা সিভি
স্ট্যান্ডার্ড সিভির দৈর্ঘ্য—১ বা সর্বোচ্চ ২ পৃষ্ঠা।
❌ ভুল ৩: অতিরঞ্জিত তথ্য
মিথ্যা তথ্য দিলে ইন্টারভিউর সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
❌ ভুল ৪: অপ্রয়োজনীয় ছবি যুক্ত করা
বাংলাদেশে এখন ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে যুক্ত করুন।
❌ ভুল ৫: অসংগঠিত লেআউট
সিভি দেখতে সুন্দর, পরিষ্কার এবং পাঠযোগ্য হতে হবে।
একটি ভালো সিভির বৈশিষ্ট্য
-
সহজ ও পরিষ্কার ডিজাইন
-
সঠিক তথ্য
-
চাকরির সাথে মিল রেখে কাস্টমাইজ করা
-
Bullet points ব্যবহৃত
-
প্রফেশনাল ফন্ট (Calibri, Arial—10-12 size)
-
PDF ফরম্যাটে সংরক্ষণ
শেষ কথা
একটি পেশাদার সিভি আপনার প্রথম ইমপ্রেশন তৈরি করে। তাই কপি–পেস্ট না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সাজানো সিভি তৈরি করুন। ভালো সিভি আপনাকে ইন্টারভিউতে পৌঁছে দেয়, আর ইন্টারভিউ আপনাকে চাকরির দরজায় নিয়ে যায়।
