প্রায় তিন কোটি টাকার বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন গাড়িতে কী আছে তারেক রহমানের জন্য?
প্রায় তিন কোটি টাকার বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন গাড়িতে কী আছে তারেক রহমানের জন্য?
গত ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস অনুমোদন দেয়। গাড়িটি কিনতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ছিয়াত্তর লাখ টাকার কিছু বেশি। প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের এই গাড়িটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এত দামী এই গাড়িটিতে আসলে কী কী বিশেষ সুবিধা রয়েছে?
চলুন, জেনে নেওয়া যাক তারেক রহমানের জন্য আনা এই নতুন গাড়িটির আধুনিক ও নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্যগুলো।
নিরাপত্তায় আধুনিক, তবে বুলেটপ্রুফ নয়
এই অত্যাধুনিক গাড়িটিতে রয়েছে উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি। যদিও এটি বুলেটপ্রুফ নয়, তবে ব্যবহারকারী চাইলে পরবর্তীতে এতে বুলেটপ্রুফ প্রযুক্তি সংযোজন করার সুযোগ রয়েছে। বুলেটপ্রুফ না হলেও গাড়িটিতে আছে সর্বাধুনিক সেন্সর, উন্নত ক্যামেরা সিস্টেম এবং শক্তিশালী সুরক্ষা কাঠামো।
টয়োটা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি প্রাডো সিরিজের সবচেয়ে নিরাপদ সংস্করণগুলোর একটি।
নয়টি এয়ারব্যাগ ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম
টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এলসি দুই শত পঞ্চাশ মডেলের এই গাড়িটিতে যুক্ত করা হয়েছে মোট নয়টি এয়ারব্যাগ। এতে সামনের এয়ারব্যাগের পাশাপাশি সাইড ও কার্টেন এয়ারব্যাগও রয়েছে। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের মাথা, বুক ও কোমরের সুরক্ষায় এসব এয়ারব্যাগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া গাড়িটি নির্মিত হয়েছে টয়োটার শক্তিশালী জিএফ প্ল্যাটফর্মে। এই নতুন প্ল্যাটফর্ম গাড়িটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়িয়েছে, যা সংঘর্ষের সময় আঘাত শোষণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
টয়োটা সেফটি সেন্স থ্রি পয়েন্ট জিরো
নতুন প্রাডো দুই শত পঞ্চাশ মডেলে যুক্ত হয়েছে টয়োটার সর্বাধুনিক টয়োটা সেফটি সেন্স থ্রি পয়েন্ট জিরো প্রযুক্তি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে উন্নত সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এই সিস্টেমে রয়েছে—
-
প্রি-কলিশন সিস্টেম
-
পথচারী শনাক্তকরণ প্রযুক্তি
যা আগাম বিপদ আঁচ করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে।
এছাড়াও এতে আছে—
-
ডাইনামিক রাডার ক্রুজ কন্ট্রোল, যা সামনে থাকা গাড়ির গতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে
-
লেন ডিপারচার অ্যালার্ট ও স্টিয়ারিং অ্যাসিস্ট, যা গাড়ি লেন থেকে সরে গেলে চালককে সতর্ক করে এবং প্রয়োজনে হালকা স্টিয়ারিং সহায়তা দেয়
নির্বাচনী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আমদানি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য এতসব সুবিধাসম্পন্ন এই গাড়িটি আমদানি করা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কোথা থেকে এসেছে গাড়িটি?
বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাদা রঙের সাত আসনের এই জিপটি চলতি বছর জাপানে উৎপাদিত হলেও এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা হয়েছে।
গাড়িটি আমিরাতের ভ্যালুস অটোমোটিভ এক্সপোর্টিং এলএলসি থেকে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইমপোর্টস লিমিটেড আমদানি করে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের এম এ অ্যাসোসিয়েটস এর মাধ্যমে গাড়িটি দেশে পৌঁছায়।
✨ নিরাপত্তা, আধুনিকতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে—তারেক রহমানের জন্য আনা এই গাড়িটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
