পৃথিবীর সীমানা

 পৃথিবীর সীমানা 


“পৃথিবীর সীমানা” কথাটার অর্থ ভূগোলে কয়েকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। নিচে সহজভাবে সবচেয়ে প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিস্তারিতভাবে দিলাম।

১) পৃথিবীর প্রাকৃতিক (ভৌত) সীমানা


পৃথিবীর কোনো শক্ত দেয়াল বা শেষ প্রান্ত নেই। তবে প্রাকৃতিকভাবে এর কিছু স্তর ও সীমা আছে।


ক) বায়ুমণ্ডলের সীমানা (Atmosphere)


পৃথিবী চারদিকে বায়ুমণ্ডল দিয়ে ঘেরা।


বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো হলো:


1. ট্রপোস্ফিয়ার – আমরা যেখানে থাকি, আবহাওয়া হয়



2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার – ওজোন স্তর এখানে



3. মেসোস্ফিয়ার



4. থার্মোস্ফিয়ার



5. এক্সোস্ফিয়ার – এখান থেকেই মহাশূন্য শুরু




👉 সাধারণভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা ধরা হয় কারমান লাইন (প্রায় ১০০ কিমি উপরে)। এর পর মহাশূন্য।



---


খ) স্থলভাগের সীমানা (Lithosphere)


পৃথিবীর ভেতরের স্তর:


1. ভূত্বক (Crust) – আমরা যেখানে বাস করি



2. ম্যান্টল (Mantle)



3. কোর (Core) – ভেতরের ও বাইরের কোর




👉 পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৬,৩৭১ কিমি।



---


গ) জলমণ্ডলের সীমানা (Hydrosphere)


সমুদ্র, নদী, হ্রদ, বরফ—সব মিলিয়ে জলমণ্ডল


সবচেয়ে গভীর স্থান: মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (~১১ কিমি গভীর)




---


২) কল্পিত বা মানচিত্রভিত্তিক সীমানা


পৃথিবী বোঝার জন্য মানুষ কিছু কল্পিত রেখা এঁকেছে।


গুরুত্বপূর্ণ রেখাগুলো:


ভূ-মধ্যরেখা (Equator) – পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে


কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩½° উত্তর)


মকরক্রান্তি রেখা (২৩½° দক্ষিণ)


উত্তর মেরুবৃত্ত ও দক্ষিণ মেরুবৃত্ত


প্রধান মধ্যরেখা (Prime Meridian) – পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধ




---


৩) পৃথিবীর রাজনৈতিক সীমানা


দেশগুলোর মধ্যে সীমারেখা (ভারত–বাংলাদেশ, ভারত–নেপাল ইত্যাদি)


এগুলো মানুষ তৈরি, প্রাকৃতিক নয়


সময়ের সাথে বদলাতে পারে




---


সংক্ষেপে


পৃথিবীর কোনো দৃশ্যমান শেষ প্রান্ত নেই


বায়ুমণ্ডল শেষ হলে মহাশূন্য শুরু


ভেতরে স্তরভিত্তিক গঠন আছে


বোঝার সুবিধার জন্য কল্পিত রেখা ও রাজনৈতিক সীমানা ব্যবহার করা হয়



যদি তুমি স্কুলের পাঠ্যবই অনুযায়ী, নোট আকারে, বা ছক/ডায়াগ্রামসহ জানতে চাও—বললে সেটাও করে দেব 🙂

Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news