ফের জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন দলের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচিত ইসলামি চিন্তাবিদ ও চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় পর্যায়ে তাঁর নেতৃত্বকে অনেকে “পরিবর্তনের ধারক” হিসেবেও দেখেন।
জন্ম ও শৈশব
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিকভাবে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁকে পরবর্তীতে ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রতি অনুপ্রাণিত করে।
শিক্ষা ও পেশা
তিনি সিলেটের বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮৩ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পেশাগত সততা ও মানবিক ব্যবহার তাঁকে সিলেট অঞ্চলে জনপ্রিয় করে তোলে।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনেই তিনি ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। প্রথমে ইসলামী ছাত্রশিবিরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে সাংগঠনিক দক্ষতা, বক্তব্যের ধরণ ও সাংগঠনিক একাগ্রতার জন্য তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন—থানাসভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা পর্যন্ত। ২০১৬ সালে তিনি দলের মহাসচিব (সেক্রেটারি জেনারেল) হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন।
নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি
ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী মূল্যবোধ, শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি মনে করেন, ইসলামি রাজনীতি কেবল ধর্মীয় নয়, বরং সমাজের ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
তাঁর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী সংগঠন কাঠামো পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই শোনা যায়—“জনগণের দাবি আদায়ে রাস্তায় নয়, নীতির ভিত্তিতে পরিবর্তন আনতে হবে।”
সাম্প্রতিক সময় ও অবস্থান
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, নির্বাচনী কাঠামো সংস্কার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
২০২৫ সালে একাধিক সমাবেশে তিনি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যক্তিজীবন
তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে সৎ, পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। সামাজিকভাবে তিনি দানশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
উপসংহার
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। পরিবর্তন, ইসলামি মূল্যবোধ ও গণআন্দোলনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর নেতৃত্বে দল কতটা নতুন পথে অগ্রসর হতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।
