মামদানি পারলেও নাহিদরা কেন পারছেন না?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটির সদ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানি। মাত্র ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে তিনি শহরের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে পেছনে ফেলে তিনি মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছেন স্বল্প সময়ের সংগঠিত প্রচারণা, তরুণ সমাজের সরব অংশগ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে।
নিউইয়র্কের মতো বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ শহরে নতুন মুখের এমন সাফল্য ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠলেও বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির উদ্যোগ নিয়ে আসা নাহিদসহ অন্যান্য তরুণ নেতারা একই পথ মসৃণভাবে অতিক্রম করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, দেশের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে সংগঠনের ঘাটতি স্পষ্ট। নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ঐক্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের কারণে তাঁরা গণমানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, জনসংযোগে ধারাবাহিকতা নেই। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রচারণা শুধু শহরমুখী থেকে যাচ্ছে; গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ে বার্তা পৌঁছাচ্ছে না।
তৃতীয়ত, নাহিদসহ নতুন নেতৃত্ব নিজেদের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতি এখনও তৈরি করতে পারেননি। শিক্ষিত তরুণদের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সমস্যার সমাধান নিয়ে স্পষ্ট নীতি বা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করতে না পারায় জনমনে প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে না। এদিকে প্রচলিত দলগুলো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সংগঠন এবং মাঠপর্যায়ের শক্তির কারণে এখনও প্রভাবশালী।
অন্যদিকে মামদানির ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা দেখা গেছে। তাঁর প্রচারণায় ছিল পেশাদার পরিকল্পনা, লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যমের সক্রিয় ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। ফলে ভোটাররা তাঁর প্রতি আস্থা রাখতে পেরেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি এবং সমন্বিত সংগঠন গড়ে তোলা। রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা, স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশ এবং নির্দিষ্ট নীতিগত অবস্থান ছাড়া তাদের পক্ষে জনসমর্থন অর্জন কঠিন হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্কে মামদানির সাফল্য তাই শুধু একজন তরুণের বিজয় নয়; এটি দেখিয়েছে—পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ রাজনীতি এখনও জয়ের প্রধান শর্ত। সেই মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির উদ্যোক্তারা কতটা সফল হবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
