🗳️ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে হবে : মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। এতে একদিকে খরচ কমবে, অন্যদিকে ভোটের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি এ মন্তব্য করেন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর “বিপ্লব ও সংহতি দিবস” উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে।
🔹 ফখরুলের বক্তব্যের মূল দিক
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে জনগণের মতামতকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচন ও গণভোট আলাদা দিনে করলে সেটি অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হবে এবং জনগণের মনোযোগও বিভক্ত হবে। তাই আমরা চাই—উভয়টি একই দিনে অনুষ্ঠিত হোক।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছে। গণভোটের আয়োজন যদি স্বাধীনভাবে করা হয়, তাহলে জনগণ সত্যিকার অর্থে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে।
🔹 কেন একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট
বিএনপি মহাসচিবের মতে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে—
-
প্রশাসনিক খরচ ও নিরাপত্তা ব্যয় কমবে,
-
ভোটার উপস্থিতি বাড়বে,
-
এবং জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।
তিনি আরও বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। গণভোট হবে সেই পরিবর্তনের পথনির্দেশক, আর নির্বাচন হবে তার বাস্তবায়নের ধাপ।”
🔹 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।
সেই ধারাবাহিকতায় মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক বিএনপির রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছেন।
৭ নভেম্বরের সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কিন্তু জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে।”
🔹 সার্বিক বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য হলেও এর জন্য আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বর্তমান সংবিধানে গণভোট আয়োজনের বিধান থাকলেও, সেটি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একত্রে করার কোনো স্পষ্ট নিয়ম নেই।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ থাকলে এটি সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
🔹 উপসংহার
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার প্রস্তাব শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং একটি জনআস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এখন দেখার বিষয়— সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই দাবির প্রতি কীভাবে সাড়া দেয় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা কোন পথে এগোয়।
