পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা: আরও ক্ষমতাবান হচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা: ফিল্ড মার্শাল থেকে আরও ক্ষমতাবান হতে যাচ্ছেন আসিম মুনির?

পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আরও ক্ষমতাবান করার উদ্দেশ্যে দেশটির সংবিধানে বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ, মেয়াদ ও দায়িত্ব আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চলছে।

🔹 সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব

পাকিস্তান সরকার “২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল” নামে একটি খসড়া প্রস্তুত করছে। এতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আছে। বর্তমানে সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে। কিন্তু নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সেনাপ্রধানকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে, যা আগে শুধুমাত্র সরকারের অনুমোদনে সম্ভব ছিল।

🔹 আসিম মুনিরের অবস্থান

সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে পরিচিত আসিম মুনির ২০২২ সালে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি তাকে “ফিল্ড মার্শাল” উপাধি দেওয়া হয়—যা পাকিস্তানে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ র‍্যাঙ্ক এবং ইতিহাসে খুব অল্প সংখ্যক সামরিক কর্মকর্তাই এই পদ পেয়েছেন।
এই নতুন সংবিধান সংশোধন কার্যকর হলে আসিম মুনির শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন বলে বিশ্লেষকদের মত।

🔹 সরকারের যুক্তি

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সীমান্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা। তাদের মতে, বর্তমান আইন কাঠামোতে অনেক সময় জটিল প্রশাসনিক অনুমোদনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হয়।

🔹 সমালোচনা ও উদ্বেগ

তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সেনাবাহিনীর প্রভাব আরও বেড়ে গেলে বেসামরিক প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়বে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই উদ্যোগ আসিম মুনিরকে কার্যত “রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতাধর ব্যক্তি”তে পরিণত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

🔹 উপসংহার

সংবিধান সংশোধনের এই পরিকল্পনা পাকিস্তানে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকার বলছে এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দরকারি পদক্ষেপ, অন্যদিকে বিরোধীরা দেখছে এটি সামরিক আধিপত্য বাড়ানোর একটি কৌশল। সব মিলিয়ে, আসিম মুনির এখন পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে—আর নতুন সংশোধন কার্যকর হলে তিনি হতে পারেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাধর সেনা কর্মকর্তা।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news