যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি-প্রস্তাব: যুদ্ধ থামাতে ইউক্রেনকে ভূমি ছাড় ও সামরিক শক্তি কমানোর শর্ত
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির অবস্থায় চলতে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন শান্তি-কাঠামো (peace framework) সামনে এনেছে। প্রাথমিক খসড়ায় যুদ্ধ থামানোর জন্য ইউক্রেনকে বেশ কিছু কঠিন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক নয়, তবে আলোচনায় থাকা প্রধান শর্তগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ইউক্রেনকে তার পূর্বাঞ্চলের কিছু ভূখণ্ড থেকে সরে আসতে হতে পারে—বিশেষ করে সেই অঞ্চলগুলো থেকে, যেখানে রাশিয়া বর্তমানে দখল করে আছে বা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে। ভূমি ছাড়ের এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে তুলে ধরছে।
এ ছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির ভারী অস্ত্র সীমিত করার বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, উভয় পক্ষ সামরিক ক্ষমতা কমালে ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের ঝুঁকি কমবে এবং আলোচনাভিত্তিক শান্তি স্থায়ী হতে পারে। তবে এই শর্ত ইউক্রেনের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে—এ কথাও অনেকে বলছেন।
কাঠামোতে আরও রয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভাষা-সংক্রান্ত অধিকার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাঠামো পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনা টেবিলে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তাদের মতে, যেকোনো শান্তি-প্রস্তাব অবশ্যই দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ইউক্রেন সরকার জানায়, তারা আলোচনায় আগ্রহী, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো চাপ তারা মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি নতুন দিক তৈরি করতে পারে, তবে বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষের প্রস্তুতি, আস্থা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর। শান্তির পথ এখনো কঠিন, কিন্তু আলোচনার দরজা নতুনভাবে খুলছে—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
