পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন নুর


পটুয়াখালী–৩ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কয়েকদিন ধরে এলাকার জনসংযোগ শেষে এক সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। তার উপস্থিতিতে এলাকায় নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ নতুনভাবে সাজতে শুরু করেছে।

জনসমাবেশে নুরের বক্তব্য

দশমিনা উপজেলার এক প্রান্তিক মাঠে আয়োজিত সভায় নুর বলেন—
“জনগণের স্বপ্ন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আর ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমি এই এলাকায় নির্বাচন করব। পটুয়াখালী–৩ শুধু একটি আসন নয়—এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষের প্রতীক।”

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও রাজনৈতিক দালালির কারণে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। তার ভাষায়—
“ভূমি দখল, অন্যায় মামলা ও স্থানীয় ত্রাস—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সময় এখনই।”

‘ট্রাক’ প্রতীকে লড়াই

গণঅধিকার পরিষদ আগামী নির্বাচনে ‘ট্রাক’ প্রতীক পেয়েছে। নুর ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এই প্রতীক নিয়েই আসনে লড়বেন।
তার দাবি, দেশের পরিবর্তনের ধারায় তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে; আর সেই নেতৃত্ব জনগণই বেছে নেবে।

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি

নুর তার দীর্ঘ বক্তব্যে পটুয়াখালী–৩ আসনের জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন—

  • চর ও দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন

  • স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা

  • মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির নিরাপত্তা ও বাজার সম্প্রসারণ

  • প্রাথমিক–মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন

  • স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা

তিনি বলেন, “এলাকাকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বহু বছর। নির্বাচিত হলে সরকার ও বিরোধী—সকল দলকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়ন করব।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাচ্ছে

নুরের ঘোষণাকে ঘিরে পটুয়াখালী–৩ এলাকায় নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাস জটিল—প্রতিবারই দলীয় কোন্দল, জোট সমীকরণ ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব বড় ভূমিকা রাখে।
নুরের জাতীয় পরিচিতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন স্থানীয় সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে—

  • নুর প্রার্থী হলে ভোট প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে

  • বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা বা জোট কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে

  • স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থানও পুনর্গঠিত হতে পারে

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

দশমিনা–গলাচিপা অঞ্চলে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নুরের প্রার্থিতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন—

  • নতুন মুখ

  • কেন্দ্রীয় পরিচিতি

  • দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান
    এসব তাকে এই এলাকায় একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে পারে।

তবে কিছু ভোটারের মত—এলাকার উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা মূলত নির্বাচনের পরে বোঝা যাবে।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news