ফাইভ পাস আবুল বয়াতি এখন কোরআনের তাফসিরকারক!


ফাইভ পাস আবুল বয়াতি এখন কোরআনের তাফসিরকারক! — বাস্তবতা, বিতর্ক ও বিশ্লেষণ

সাম্প্রতিক সময়ে একটি নাম অনেকের আলোচনায় — আবুল বয়াতি। সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা ফাইভ পাস হওয়া সত্ত্বেও এখন তাকে অনেকেই কোরআনের তাফসিরকারক বা ব্যাখ্যাকারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, বিতর্ক এবং ধরাবাঁধা মতামত তৈরি হয়েছে। কেউ এটি গ্রহণ করছেন জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতাকে উদাহরণ হিসেবে, আবার কেউ বিষয়টি দেখছেন সতর্কতার চোখে।

বিশ্বের ইতিহাসে দেখা যায়—জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একজন মানুষ যদি অধ্যবসায়, গবেষণা, সাধনা ও সঠিক উৎস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন—তাহলে জ্ঞানের অগ্রগতির সম্ভাবনা সব সময় খোলা থাকে। কর্মজীবনের শুরুতে সাধারণ শিক্ষা থাকলেও পরবর্তীতে অধ্যয়ন ও সাধনার মাধ্যমে কেউ বড় আলেম বা গবেষকও হয়ে উঠেছেন উদাহরণও ইতিহাসে কম নয়।

কিন্তু প্রশ্নটি এখানেই থেমে নেই—কোরআনের তাফসির করা কি শুধু আগ্রহ বা ইচ্ছার বিষয়?
তাফসির মানে শুধু অনুবাদ নয়। এটি হলো—আয়াতের প্রেক্ষাপট জানা, শব্দের উৎস বোঝা, আরবি ব্যাকরণ আয়ত্ব করা, নাজিল হওয়ার কারণ জানা, হাদিস ও ফিকহের রেফারেন্স মিলিয়ে আয়াতের অবস্থান নির্ণয় করা। এসব ছাড়া ব্যাখ্যা দিলে তা ভুল বা বিভ্রান্তিকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একজন তাফসিরকারক যখন আয়াত ব্যাখ্যা করেন, তখন তার প্রতিটি বক্তব্য মানুষের বিশ্বাস ও আচরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে—সেই কারণেই ইসলামী জ্ঞানে গভীর ভিত্তি থাকা জরুরি।

এখন প্রশ্ন—আবুল বয়াতি কি সত্যিই তাফসিরকারক হওয়ার মতো জ্ঞান অর্জন করেছেন?
কেউ কেউ বলেন, পাশে তেমন স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা নেই, আবার কেউ যুক্তি দেন তিনি নিজে অধ্যবসায় করেছেন এবং সবার মতো তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রয়েছে। বাস্তবিকপক্ষে এটি যাচাইয়ের সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদ্ধতি হলো—তার ব্যাখ্যা কিতাব, হাদিস এবং মুফাসসিরদের ব্যাখ্যার সঙ্গে তুলনা করে দেখা।

সমাজের একাংশ মনে করেন—শিক্ষার সার্টিফিকেট সব নয়, আল্লাহ্ যার অন্তর খুলে দেন, সে জ্ঞান লাভ করে। অন্যদিকে আরেক অংশ বলেন—ধর্মীয় ব্যাখ্যা দায়িত্বপূর্ণ কাজ, সেখানে ভুল মানে বিভ্রান্তি, আর বিভ্রান্তি মানে ভুল পথে পথচলা।

সুতরাং পুরো বিষয়টি দাঁড়ায় এই জায়গায়—

🔹 শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলেও জ্ঞান অর্জন সম্ভব
🔹 কিন্তু তাফসির করার জন্য শুধু আগ্রহ নয়— গভীর ইসলামি অধ্যয়ন ও প্রমাণ হতে হবে
🔹 ব্যক্তিগত ধারনা নয়, ভিত্তি হতে হবে প্রামাণ্য উৎস

আলোচনার মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, প্রশ্ন থাকবে, সমালোচনা থাকবে—কিন্তু সম্মান বজায় রেখে। কারণ আলাপ ও অনুসন্ধানই সত্যের পথকে পরিষ্কার করে।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news