চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেওয়া হবে কিনা, রায় ৪ ডিসেম্বর


চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে যাবে কি না—৪ ডিসেম্বরকে ঘিরে জল্পনা

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও কৌশলগত বন্দর হওয়ায় এর কার্যক্রম নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বন্দর পরিচালনার কিছু অংশ বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্য ও নথিপত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ৪ ডিসেম্বর–কে ঘিরে সম্ভাব্য রায় বা সিদ্ধান্তের ব্যাপারটি আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

বন্দরের আধুনিকায়ন ও বিদেশি অপারেটরের প্রসঙ্গ

সরকার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল, ডিপি, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল, নিউ মোরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য বিদেশি ব্যবস্থাপনা আনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এবং পণ্য খালাসের সময় কমাতে বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো জরুরি।

এ কারণে ডিসেম্বরে এক বা একাধিক বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিদেশি অপারেটর বাছাই ও টার্মিনাল হস্তান্তর নিয়ে প্রশাসনিক এবং নীতিগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

৪ ডিসেম্বরকে ঘিরে সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা

বন্দর পরিচালনায় নতুন নীতিমালা অনুমোদন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ অথবা কোনো মামলার নিষ্পত্তি—এসব বিষয়ে ডিসেম্বরের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনার সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে ৪ ডিসেম্বর তারিখটি একটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে সেদিন চূড়ান্ত কোনো রায় বা হস্তান্তর ঘোষণা হবে কি না। সরকারি পক্ষ বলছে, সবকিছু নির্ধারিত নিয়মেই এগোবে; সিদ্ধান্ত হতে পারে ডিসেম্বরের যেকোনো সময়।

বিরোধ ও রাজনীতির প্রভাব

বন্দর নিয়ে বিদেশি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি—জাতীয় কৌশলগত স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের যুক্তি—বিদেশি অপারেটর আনা মানে বন্দর বিদেশিদের ‘হাতে তুলে দেওয়া’ নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনাগত সহায়তা নেওয়া, যেখানে সম্পত্তি বা সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছেই থাকে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করে। এ কারণে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি বাণিজ্য ব্যয়, সময় ও লজিস্টিক শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করবে। বিদেশি অপারেটর এলে কিছু ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বাড়তি ক্রেন, উন্নত আইটি সিস্টেম এবং ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম বাড়তে পারে।
তবে পর্যাপ্ত জনবল প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত না হলে নতুন সমস্যাও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

সারসংক্ষেপ

চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু অংশ বিদেশি অপারেটরদের হাতে যাবে কি না—এ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আলোচনা তীব্র হলেও ৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হবে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো নেই। তবে বন্দর আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক লজিস্টিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাসটিই চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news