রাজধানীর ৩ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেলে আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকায় একই সন্ধ্যায় তিনটি পৃথক স্থানে পরপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষ এক মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর মধ্যে হাতিরঝিলে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরার ঘটনাও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সতর্কতা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
📍 প্রথম বিস্ফোরণ: আগারগাঁও–বিআরটিএ এলাকা
সন্ধ্যার কিছু পর ঢাকার ব্যস্ত আগারগাঁও এলাকায় প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়রা জানান, শব্দটি বিকট হলেও এলাকায় দৃশ্যমান ক্ষতি তেমন হয়নি। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে শুরু করে।
এলাকা পুরো সময়জুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ছিল।
📍 দ্বিতীয় বিস্ফোরণ: মিরপুর–১২ মেট্রোস্টেশনের নিচে
প্রথম ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর মিরপুর-১২ এর মেট্রোস্টেশন এলাকায় আরেক দফা দু’টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনাটি হওয়ায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে থাকা বহু যাত্রী ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, একই ধরনের ককটেল জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
📍 তৃতীয় বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেলে আগুন: হাতিরঝিল–মধুবাগ ব্রিজের নিচে
তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে হাতিরঝিল এলাকার মধুবাগ ব্রিজের নিচে। বিস্ফোরণের পরপরই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিছু সময় পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনে মোটরসাইকেলের সামনের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, তবে চালক বা আশপাশের কেউ আহত হয়নি।
⚠️ তদন্ত ও পুলিশের অবস্থান
একাধিক স্থানে একই সময়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায় ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন—
-
বিস্ফোরণগুলোর ধরন একই রকম
-
উদ্দেশ্য আতঙ্ক তৈরি করা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
-
আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে
-
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও পুরনো বিরোধ নিয়ে তদন্ত চলছে
-
ঘটনাগুলো সমন্বিতভাবে ঘটানো হয়েছে কিনা—এটিও অনুসন্ধানে
পুলিশের টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
👥 স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
বিস্ফোরণের শব্দে বহু মানুষ ঘরের জানালা-দরজা থেকে বাইরে তাকান।
অনেকে বলেন,
-
“হঠাৎ শব্দে মনে হয়েছিল বড় ধরনের কিছু ঘটেছে।”
-
“মোটরসাইকেলে আগুন লাগার পর সবাই আতঙ্কে পড়ে গিয়েছিল।”
-
“এলাকাজুড়ে কিছু সময় মানুষের ভিড় দেখা যায়।”
তবে শান্ত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
🔎 সম্ভাব্য কারণ ও বিশ্লেষণ
যদিও এখনও কোনো গোষ্ঠী দায়িত্ব স্বীকার করেনি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে—
-
গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে
-
রাজনৈতিক পটভূমিতে ছোটখাটো নাশকতার অংশ হতে পারে
-
কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে—এটিও অনেকে বলেছেন
পুলিশ ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে।
📌 সমাপ্তি
রাজধানীর ব্যস্ত সময়ে তিন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ—এর সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগার ঘটনা—শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যদিও হতাহতের ঘটনা নেই, তবু একাধিক বিস্ফোরণ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
