রাফাহ ও গাজা সিটিতে ইসরায়েলের হামলা – নিহত ৪, খুঁড়িয়ে হাঁটছে মানবতা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা যেন এক মৃত্যুপুরী। প্রতিদিন নতুন করে চাপিয়ে বসা আগ্রাসন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বপ্ন এবং বেঁচে যাওয়ার ভয়াবহ সংগ্রাম—সবই জায়গা করে নিচ্ছে দুঃসহ বাস্তবতায়। সম্প্রতি রাফাহ ও গাজা সিটি আবারও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, এ হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
এ ঘটনা প্রমাণ করে—যুদ্ধ থেমে নেই, বরং গতি পরিবর্তন করে আবারও জ্বলে উঠছে আগুনের রেখা।
✦ কীভাবে ঘটল হামলা
রাফাহ ও গাজা সিটির বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হঠাৎই শুরু হয় ভারী গোলাবর্ষণ। যুদ্ধবিমান ও ড্রোন আকাশ থেকে আগুন ঝরায়, মাটিতে ঘন ধোঁয়ার কালো মেঘ। বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে শহর, ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, দোকান, রাস্তা। খবর পাওয়া যায়—ধ্বংসাবশেষ থেকেই উদ্ধার করা হয় একাধিক আহত শিশু ও নারী।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও হামলার ধারা কমেনি বরং বদলে নেয় দিক ও অঞ্চল। গাজার মানুষ প্রতিদিন ঘুম ভাঙায় আতঙ্কে—আজ বাঁচবে নাকি ধ্বংস হবে আরেকটি পরিবার।
✦ নিহতদের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
সর্বশেষ হামলায় চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—কারণ অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানো রোগীদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে—
🔸 ভেঙে যাওয়া বসতবাড়ি
🔸 ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন
🔸 চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
🔸 পানি ও খাদ্য সংকট আরও তীব্র
যুদ্ধ শুধু প্রাণ কেড়ে নেয় না—কেড়ে নেয় স্বাভাবিক জীবন, কেড়ে নেয় ভবিষ্যৎ।
✦ মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ
গাজার মানুষ আজ চোখের সামনে দেখছে—
ঘর হারানো শত শত পরিবার, নিরাপদ পানির সংকট, হাসপাতালের বেড ভরা আহত ও মৃতদের ভিড়ে। শিশুরা বই নয়, শিখছে বেঁচে থাকার পাঠ।
রাফাহে পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধের অভাব এখন নিয়মিত দুর্ভোগ। ব্যান্ডেজ, স্যালাইন, পেইনকিলার, অ্যান্টিবায়োটিক—সবকিছুই সীমিত। খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হলে মানুষ বাধ্য হয় আধা ভাত, শুকনো রুটি বা শুধু পানি দিয়েই দিন কাটাতে।
✦ এই যুদ্ধ কার লাভে, কার ক্ষতিতে?
বোমার শব্দ রাজনীতির ভাষা জানে। কিন্তু মানুষের কান শুধু শোনে হতাশা, কান্না, মৃত্যুর শব্দ। সীমান্তের বালির ওপর দাগ টেনে ঝগড়া যতদিন চলবে—জ্বলে পুড়বে মানুষ, ভেঙে যাবে ঘর, নিভে যাবে শিশুদের হাসি।
যুদ্ধের ফলাফল শুধু মৃত্যু নয়—এটি ইতিহাসের বুকে আরেকটি কালো দাগ।
✦ কী প্রয়োজন এখন?
✔ জরুরি মানবিক সহায়তা–খাদ্য, ওষুধ, পানি
✔ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর পর্যবেক্ষণ
✔ বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
✔ শিশুদের জীবন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা
মানবতা জাগ্রত হলে যুদ্ধ থামতে পারে। নয়তো ধ্বংসই অপেক্ষা করছে আরও গভীরে।
✦ শেষ কথা
রাফাহ ও গাজা আজ শুধু যুদ্ধবিদ্ধস্ত অঞ্চল নয়—এ একটি জাতির চিৎকার, সাহায্যের আহ্বান, পৃথিবীর বিবেককে জাগানোর সাইরেন। নিহত সেই চারজন কেবল সংখ্যা নয়—তারা একেকটি পরিবার, স্বপ্ন, জীবন।
যুদ্ধ থামুক, মানুষ বাঁচুক।
পরিবর্তন আসুক—রক্ত নয়, শান্তির রঙে।
