নেপালে আবার উত্তেজনা: তরুণদের বিক্ষোভ বাড়ায় জারি কারফিউ
নেপালে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ শান্ত থাকার পর আবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত Gen Z হিসেবে পরিচিত নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলন সরকারবিরোধী ক্ষোভ ও সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে আরও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে।
নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কয়েকটি জেলা ও শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ চলাকালে জনসমাগম, মিছিল, মিটিং এবং গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা গেছে সিমারা ও নিকটবর্তী বারার কিছু এলাকায়, যেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলীয় কর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। রাস্তা অবরোধ, ভবনে আগুন ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনী চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি—এই আন্দোলন শুধু কোনো একক ঘটনার প্রতিবাদ নয়; এটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর জনআন্দোলন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ বাড়লেও রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অসন্তোষ প্রকাশের এই সুযোগ তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নেপালের তরুণ প্রজন্ম এখনো রাস্তায় আছে, আর কারফিউ–তাদের দাবি থামানোর পরিবর্তে আরও উত্তেজনা তৈরি করছে—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।
