ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকি, আতঙ্ক


 ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকি, দেশজুড়ে আতঙ্ক—বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা জোরালো হচ্ছে

দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থা ও সাম্প্রতিক কম্পনধারার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উপর দিয়ে যাওয়া সক্রিয় ফল্ট লাইন, টেকটোনিক প্লেটের চাপ এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর কাঠামো দেশকে একটি “উচ্চ ঝুঁকির ভূমিকম্প অঞ্চলে” পরিণত করেছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে দেশ-বিদেশে বারবার ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, মেঘালয়—এই আঞ্চলিক ফল্ট লাইনে ধারাবাহিক চাপ বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়াই বিপদের ইঙ্গিত; কারণ চাপ যত বাড়ে, তত বড় মাত্রার কম্পনের সম্ভাবনা থাকে।

রাজধানী ঢাকাকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। অধিকাংশ ভবন নির্মাণে যথাযথ মানদণ্ড না মানা, সংকীর্ণ রাস্তা, পুরোনো এলাকা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বড় ধরনের কম্পন এলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ভবন ভূমিকম্প সহনীয় কিনা—তার কোনো নথিও নেই, যা আতঙ্কের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের মাঝে সচেতনতা এখনও যথেষ্ট নয়। ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে—এ নিয়ে প্রশিক্ষণ কম, স্কুল-কলেজেও নিয়মিত ড্রিল হয় না। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা ও আধুনিক সরঞ্জাম সীমিত হওয়ায় বড় দুর্যোগ এলে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হবে।

সরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভবন ঝুঁকি নিরূপণ, পুরোনো স্থাপনা পুনর্বাসন, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা হালনাগাদ করার কাজ চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের গতি কাঙ্ক্ষিত নয়; ঝুঁকি যেভাবে বাড়ছে, প্রস্তুতি তার চেয়ে অনেক কম।

মানুষের আতঙ্কের মূল কারণ—অঞ্চলজুড়ে চলমান টেকটোনিক চাপ, বারবার মৃদু কম্পন, এবং ভবন নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। গবেষকদের ভাষায়, “বড় ভূমিকম্প হবে কি না নয়—প্রশ্ন হলো, কবে হবে”


Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news