শেখ হাসিনাসহ আসামিপক্ষের আপিলের সুযোগ আছে : অ্যাটর্নি জেনারেল
প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন—শেখ হাসিনা এবং মামলার অন্যান্য আসামির আইনগতভাবে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু শর্তের উপর নির্ভরশীল।
তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর প্রতিটি আসামিরই উচ্চ আদালতে যাওয়ার অধিকার থাকে। এই অধিকার বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। তিনি বলেন, কেউ যদি পলাতক থাকেন, তাহলে তাঁকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হতে হবে। সে অবস্থায়ই আদালতে আপিল করার প্রক্রিয়ায় এগোনো যাবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপক্ষ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। রায় কার্যকর হবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এবং কোনো ধরনের ব্যতিক্রম করা হবে না। আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, সরকার সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আপিল করার জন্য আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সাধারণত রায় ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। ফলে আসামিপক্ষ যদি আইনগত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায়, তাহলে এই সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে, রায়ের পর আসামিদের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশনাও ইতোমধ্যে কার্যকর করা শুরু হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে। সম্পদ ক্রোক করা আদালতের আদেশের অংশ, যা তদন্ত এবং রায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ধারা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।
সব মিলিয়ে, অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে পরিষ্কার—আপিলের সুযোগ আইনেই আছে, তবে তা কার্যকর করতে হলে আসামিদের আইনের আওতায় আসতে হবে। পলাতক অবস্থায় কোনো আদালতের দোরগোড়ায় যাওয়া সম্ভব নয়। বিচার ব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে এ পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
