খুলনায় আদালতের সামনে গুলি ও কুপিয়ে দুইজনকে হত্যা
হাজিরা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলা
খুলনায় আদালত প্রাঙ্গণে দিনের আলোয় ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হাজিরা দিতে এসে আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে মারা যান দুই ব্যক্তি। চলমান জনসমাগমের মাঝেই গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনার দ্রুততা এমন ছিল যে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা তা ঠেকানোর সুযোগও পাননি। আদালতের মতো নিরাপত্তাবহুল পরিবেশের সামনে এমন সাহসী হামলা মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার দুপুরের দিকে দুই ব্যক্তি আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে এসেছিলেন। নিয়মিত কার্যক্রম শেষে তাঁরা বের হয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে ফিরছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই কয়েকজন অজ্ঞাত আততায়ী মোটরসাইকেলযোগে এসে তাঁদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। প্রথমে লক্ষ্যভেদী গুলি, পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নেমে নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলে হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তি মারা যান, আরেকজন রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর মৃত্যু বরণ করেন।
ঘটনার সময় আশেপাশে সাধারণ মানুষ, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী—অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ নিরাপত্তার ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন, আবার কেউ আহতদের দিকে ছুটে যান। রক্তে ভেজা রাস্তা ও মানুষের চিৎকার মুহূর্তেই পুরো আদালত এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।
সম্ভাব্য কারণ ও তদন্ত
হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন নাকি একাধিক মামলার আসামি ছিলেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দীর্ঘদিনের বিরোধ, পুরনো শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং পালিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের গতিমুখ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন—এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট উদাহরণ। আদালতের মতো উচ্চ নিরাপত্তার এলাকায় যারা হামলার দুঃসাহস দেখাতে পারে, তাদের পিছনে শক্তিশালী সংগঠিত শক্তি থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়-উৎকণ্ঠা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—আদালতের মতো জায়গায় নিরাপত্তা এত দুর্বল কেন? অপরাধীরা কিভাবে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করল? আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কথা, সেখানে এমন হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে দ্রুতবর্ধমান সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে নজরদারি আরও কঠোর করা প্রয়োজন। হত্যার ঘটনা একদিকে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা নষ্ট করছে, অন্যদিকে শহরজুড়ে অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপসংহার
খুলনার আদালত এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে নতুন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারলে মানুষের ভয় ও আতঙ্ক কিছুটা দূর হবে। তবে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—আইনের আশ্রয়স্থলও এখন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে আর নিরাপদ নয়।
