বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ না, টার্গেট ছিলেন বাবলা : সিএমপি কমিশনার



🎯 বিএনপি প্রার্থী নয়, টার্গেট ছিলেন বাবলা — সিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে নতুন মোড়

চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর ২০২৫:
চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ থানার চাইলত্যাতলী এলাকায় বিএনপি মনোনীত সংসদ প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার জানিয়েছেন—ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী নয়, টার্গেট ছিলেন নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা (৪৩)

এই তথ্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


🕐 ঘটনাপ্রবাহ

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাইলত্যাতলী এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চলছিল। প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারণা করছিলেন। হঠাৎ করেই অজ্ঞাত দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই现场ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গুলিবিদ্ধ হন প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন এবং গুলিতে নিহত হন বাবলা। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


👮 সিএমপি কমিশনারের বক্তব্য

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

“প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, গুলির মূল টার্গেট ছিলেন বাবলা। বিএনপি প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালানো হয়নি। বাবলা স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বাবলার সঙ্গে স্থানীয় একটি অপরাধচক্রের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাঁকে টার্গেট করা হয়। নির্বাচনী গণসংযোগের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।


📋 তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বায়েজিদ থানা পুলিশ।
পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বদলে ব্যক্তিগত শত্রুতার দিকেই তদন্তের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


🗣️ বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বিএনপি নেতারা বলছেন, ঘটনাটি যে সময় ঘটেছে, তখন শত শত মানুষ গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন। গুলির পেছনে যেই উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, তা রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র
তারা দাবি করেছেন, “প্রার্থীকে গুলি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”


📍 নিহত বাবলার পরিচয়

সরোয়ার হোসেন বাবলা বায়েজিদ এলাকার পুরনো মুখ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল।


⚠️ এলাকায় উত্তেজনা

গুলির পর থেকেই চাইলত্যাতলী ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয়রা ঘরে অবস্থান নেয়। পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।


🔍 বিশ্লেষণ

এই ঘটনায় দুটি দিক সামনে এসেছে—

  1. রাজনৈতিক নিরাপত্তার ঘাটতি: নির্বাচনী সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।

  2. স্থানীয় অপরাধচক্রের আধিপত্য: রাজনীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংমিশ্রণ জনজীবনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

যদি পুলিশের দাবি সঠিক হয় যে “টার্গেট ছিলেন বাবলা”, তাহলে এটি রাজনৈতিক সহিংসতা নয় বরং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের ফল। তবে রাজনৈতিক প্রার্থী সেখানে উপস্থিত থাকায় ঘটনাটি বড় আকারে আলোচিত হয়েছে।


🧾 সারসংক্ষেপ

  • বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা।

  • সিএমপি কমিশনারের দাবি—টার্গেট ছিলেন বাবলা, প্রার্থী নয়।

  • বাবলার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

  • পুলিশ ব্যক্তিগত শত্রুতার দিকেই তদন্ত চালাচ্ছে।

  • এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



  1. টার্গেট ছিলেন বাবলা, বিএনপি প্রার্থী নয় — চট্টগ্রাম সিএমপি কমিশনার

  2. চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলি, নতুন তথ্য জানালো পুলিশ

  3. বাবলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে গুলির ঘটনা: রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধ

  4. সিএমপি’র দাবি: বাবলাই মূল লক্ষ্য, প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিরাপদ

চট্টগ্রাম সংবাদ, বিএনপি প্রার্থী, এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার হোসেন বাবলা, সিএমপি কমিশনার, গুলির ঘটনা, চট্টগ্রাম নির্বাচন ২০২৫, নির্বাচনী সহিংসতা, বায়েজিদ থানা, বাংলাদেশ রাজনীতি



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news