রাজসাক্ষীকে শাস্তি দেওয়া যায় কি না—আইনের ব্যাখ্যায় নতুন করে আলোচনা তীব্র
দেশের আলোচিত মামলাগুলোতে রাজসাক্ষীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। অপরাধে জড়িত থেকেও পরে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত শাস্তি থেকে অব্যাহতি পান। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজসাক্ষী হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি নয়; নির্দিষ্ট শর্ত ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে মূল অপরাধেই পুনরায় মামলা চলতে পারে এবং শাস্তিও দেওয়া যায়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পুরো সত্য আদালতের সামনে তুলে ধরে এবং তদন্তে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, তবে আদালত তাকে ক্ষমা দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষমা রাজসাক্ষীকে মামলার দায় থেকে আপাতত রক্ষা করলেও তা আদালতের বিবেচনাধিকারসাপেক্ষ। সাক্ষ্য হতে হবে সঠিক, প্রমাণসমর্থিত এবং তদন্তের প্রতিটি ধাপে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।
আইনজীবীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও পরে আদালত দেখতে পায়—তার বক্তব্য অসঙ্গত, বিভ্রান্তিকর বা মূল ঘটনার সাথে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের অবস্থায় রাজসাক্ষী হিসেবে দেওয়া আগের সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। তখন তাকে আবার আসামি হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় এবং দোষ প্রমাণিত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যদি প্রমাণ হয় রাজসাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, অপরাধ গোপন করেছেন অথবা রাষ্ট্রের সাথে করা সহযোগিতার শর্ত ভেঙেছেন, তবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগেও আলাদা মামলা হতে পারে। ফলে রাজসাক্ষীর অবস্থান তখন আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আদালত কোনো সন্দেহ পেলেই রাজসাক্ষীর দেওয়া বক্তব্যকে বিশেষ যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে। কারণ আদালতের মূল লক্ষ্য থাকে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা। সহযোগিতা সত্য না হলে সেই সুবিধা স্থায়ী নয়—এ ধারণাই এবার আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সার্বিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজসাক্ষী একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হলেও তা কখনোই অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় নয়। সত্য গোপন বা মিথ্যা বলার চেষ্টা করলে যে কোনো সময় রাজসাক্ষীকে সাধারণ আসামির মতোই বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
