২০১৮ সালের ভোট ডাকাতির নীলনকশ-১ ‘টিম জাবেদের’ নির্দেশনায় আগের রাতে বাক্স ভর্তি

 ২০১৮ সালের ভোট ডাকাতির নীলনকশ-১

‘টিম জাবেদের’ নির্দেশনায় আগের রাতে বাক্স ভর্তি


**২০১৮ সালের ভোট ডাকাতির নীলনকশা–১

অভিযোগ: ‘টিম জাবেদের’ নির্দেশনায় আগের রাতে বাক্স ভরার প্রস্তুতি**

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। সেই ভোটকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ই উঠে এসেছে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ। নির্বাচন–পরবর্তী বহু সাক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীদের বর্ণনা এবং কিছু পর্যবেক্ষকের নথিভুক্ত বক্তব্যে উঠে আসে—একটি সমন্বিত টিমকে ঘিরে ‘আগাম প্রস্তুতি’ নেওয়ার কথা। ওই সমন্বয়কারী দলকে স্থানীয়রা অনানুষ্ঠানিকভাবে ডাকতো ‘টিম জাবেদ’ নামে—যদিও নামটির সত্যতা বা আনুষ্ঠানিক পরিচয় কখনও পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি: আগের রাতেই অস্বাভাবিক তৎপরতা

তদন্তশীল সাংবাদিকেরা জানান, অনেক কেন্দ্রে ২৯ ডিসেম্বর রাত থেকেই অস্বাভাবিক যাতায়াত লক্ষ্য করেছেন স্থানীয়রা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ পোশাকহীন কিছু দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ির পেছনে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগ উঠে আসে। কেউ কেউ বলেন, তাদের হাতে ছিল সিল মারা ব্যালট; আবার কেউ বলেন, খালি ব্যালট নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বাইরে আসার সময় ডাকাতির মতো চাপে সিল দেওয়া ব্যালট বের হয়েছে।

স্থানীয় এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পরে অনানুষ্ঠানিক আলাপে বলেন,
“রাত ১১টার পর হঠাৎ করে আমাদের কেন্দ্র ‘অফ-লিমিট’ ঘোষণা হলো। কে দিল, কোন নির্দেশে দিল—কেউ বলতে পারিনি।”

‘টিম জাবেদ’: সমন্বয় নাকি ছায়া-অপারেশন?

নামটি ঠিক কার কাছ থেকে এসেছে, সেটি পরিষ্কার নয়। তবে বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের অভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাবেদ’ নামে একজনকে কেন্দ্র করে ছিল একটি সমন্বয় দল—যারা কেন্দ্র পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটের রাতের বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা দাবি করেন,
“সরাসরি নির্দেশ আসতো—ফলাফল যেন সকালে বের হওয়ার আগেই নিশ্চিত থাকে। বাক্স ঠিকমতো সাজানো হয়েছে কি না, তা তারা নিজে উপস্থিত থেকে দেখত।”
অবশ্য এসব কথার কোনোই স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

ব্যালট বাক্সে আগাম সিল: অভিযোগের ধরন

বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে যে ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে সেগুলো হলো—

  • রাতেই ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে আনা

  • সিল মারা ব্যালট ভেতরে ঢোকানো

  • কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে ‘সহযোগিতার বিনিময়ে নিরাপত্তা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

  • বিরোধী দলীয় এজেন্টদের প্রবেশ সীমিত করার কৌশল

  • ভোরের আগে ফলাফল “প্রস্তুত” করে রাখা

একটি কেন্দ্রের এজেন্ট বলেন,
“আমরা সকাল ৮টায় ঢুকতে গিয়ে দেখি ব্যালটের অর্ধেক শেষ। অথচ একটিও ভোটার তখনো লাইনে দাঁড়ায়নি।”

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা যা বলেছিলেন

দেশীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক কেন্দ্র পরিদর্শনের পর রিপোর্টে উল্লেখ করেছিলেন—কিছু এলাকায় ভোট শুরুর আগেই ব্যালট বাক্সে চিহ্নিত ব্যালট দেখা গেছে। আবার কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দলকে ভোটের আগের রাতে এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি অবস্থান: ‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন’

সেই সময় সরকারি পক্ষ স্পষ্ট জানায়—এ ধরনের বক্তব্য “গুজব”, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “তথ্যহীন”। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বলে,
“আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরের কোন সুযোগ নেই—সবকিছু আইন অনুযায়ী হয়েছে।”

তবুও প্রশ্ন রয়ে গেল

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ভোটের আগের রাতের ঘটনাগুলো আজও আলোচনায় থাকে। ‘টিম জাবেদ’ নামে কথিত সমন্বয়কারীদের বাস্তব অস্তিত্ব বা ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রামাণিক তদন্ত হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি অভিযোগ, সাক্ষ্য—এবং রাজনৈতিক বয়ানের পাওয়া জোড়া দেওয়া চিত্র হিসেবেই রয়ে গেছে।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news