দারফুর গভর্নর মিননি মিনাওই
আরএসএফ তিন দিনে ২৭ হাজার সুদানি নাগরিককে হত্যা করেছে
দারফুরে তিন দিনে ২৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি: গভর্নর মিননি মিনাওইয়ের ভয়াবহ দাবি
প্রতিবেদন
সুদানের দারফুর অঞ্চলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার সতর্কতা দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দারফুরের গভর্নর মিননি মিনাওই বিস্ময়কর ও শঙ্কাজনক দাবি করেছেন—মাত্র তিন দিনের মধ্যে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) ২৭ হাজারের বেশি সুদানি নাগরিককে হত্যা করেছে।
মিনাওই জানান, দারফুরের বহু গ্রাম ও শহরে RSF নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্য সাধারণ মানুষ, বিশেষত যেসব এলাকায় সরকারি বাহিনির উপস্থিতি কম। গভর্নরের ভাষায়, “এটি সাধারণ সংঘর্ষ নয়; এটি পুরো জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা।”
হামলার প্রকৃতি
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, RSF বিভিন্ন বসতিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, পুরুষদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং নারী-শিশুদের ওপর নানাবিধ নির্যাতন চালাচ্ছে। বহু পরিবার রাতারাতি ঘরবাড়ি ছেড়ে মরুভূমির দিকে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চাদে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা
গভর্নর মিনাওইয়ের দাবি অনুযায়ী, তিন দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক আফ্রিকান সংঘাতগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন। যদিও স্বাধীনভাবে এই সংখ্যা যাচাই করা কঠিন, দারফুরে যারা মাঠে কাজ করছেন—মানবাধিকার কর্মী, স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা—তারা সবাই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কথা বলছেন।
মানবিক বিপর্যয় ঘনীভূত
হামলার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। খাবার, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অনেক এলাকাই এখনো ঘেরাও অবস্থায়, ফলে সেখানকার হতাহত বা নিখোঁজদের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে দারফুরে সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গভর্নর মিনাওই বিশ্বশক্তিগুলোর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “যদি সময়মতো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ না আসে, পুরো দারফুর একটি মানবিক সমাধিক্ষেত্রে পরিণত হবে।”
