📰 জোটসঙ্গীদের ভুলে যায়নি বিএনপি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট রাজনীতি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে বিএনপি আবারও তাদের পুরনো সহযোগী ও অংশীদার দলগুলোর প্রতি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এতে বোঝা যায়—দলটি এখনো “ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি” গঠনে আগ্রহী এবং জোটসঙ্গীদের ভুলে যায়নি।
🔹 পুরনো মিত্রদের সঙ্গে নতুন সমন্বয়
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব—সবাইই এক সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
সম্প্রতি বিএনপি নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু আসন খালি রেখে এই নেতৃবৃন্দের দলগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সমন্বয়ের সুযোগ দিয়েছে, যা রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
🔹 ঐক্যের বার্তা ও লক্ষ্য
বিএনপির কৌশল এখন স্পষ্ট—তারা এককভাবে নয়, বরং সমমনাদের সঙ্গে মিলে একটি গণআন্দোলন গড়তে চায়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে এই যৌথ অবস্থান ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী বিরোধী প্ল্যাটফর্ম গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
🔹 সহযোগী দলগুলোর প্রত্যাশা
সহযোগী দলগুলোও চায়, বিএনপি শুধু আন্দোলনের সময় নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রার্থীতার ক্ষেত্রেও তাদের মর্যাদা দিক। নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি, জেএসডি, জাতীয় দল ও গণঅধিকার পরিষদ—সবাই চায় একটি “ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের” ভিত্তিতে দেশ পরিচালনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক।
🔹 সামনে রাজনৈতিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের রাজনীতি সব সময় পরিবর্তনশীল। তাই এই সমঝোতা বা জোট সমন্বয় ভবিষ্যতে কতটা দৃঢ় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে অন্তত বর্তমান অবস্থায় বিএনপির এই উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
সংক্ষেপে:
বিএনপি আবারও প্রমাণ করেছে—তারা এখনো জোটসঙ্গীদের ভুলে যায়নি। বরং পরিবর্তিত সময়ের রাজনীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও যৌথ নেতৃত্বকেই সামনে রেখে এগোচ্ছে দলটি।
