বিশ্বের কোন দেশগুলোয় মৃত্যুদণ্ড আছে, কারা বাদ দিয়েছে


বিশ্বের মৃত্যুদণ্ড নীতি: কারা এখনো বজায় রেখেছে, কারা পিছনে ফেলেছে

বিশ্বে মানবাধিকার ও শাস্তি সংস্কারের আলোচনায় সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলোর একটি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমে গেলেও এখনও বহু দেশ এ শাস্তি বহাল রেখেছে। অন্যদিকে, বিশ্বের বড় অংশ ইতোমধ্যে এই দণ্ড সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা অনুশীলনে পরিত্যাগ করেছে।

মৃত্যুদণ্ড বজায় রাখা দেশগুলো

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বা আইনগতভাবে বহাল আছে। এ ধরনের দেশগুলো সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ, কিংবা নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এ দণ্ড প্রয়োগ করে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ, কিছু আফ্রিকান রাষ্ট্র এবং বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশও এই তালিকায় রয়েছে। আইনগত কাঠামো মজবুত হওয়ায় এসব দেশে মৃত্যুদণ্ড এখনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে

ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়ার অধিকাংশ দেশ দীর্ঘদিন আগে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করেছে। এসব দেশে মানবাধিকার অগ্রগতি, বিচারব্যবস্থায় ভুল হওয়ার ঝুঁকি, এবং রাষ্ট্রীয় মানবিক নীতির অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে অমানবিক দণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকটি দেশ আইনে মৃত্যুদণ্ড রাখলেও বহু বছর ধরে এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই, ফলে তারা কার্যত মৃত্যুদণ্ডমুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

আইনে আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই

বিশ্বে এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও বিগত এক দশক বা তারও বেশি সময় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। রাজনৈতিক অবস্থান, বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এসব দেশ ধীরে ধীরে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার থেকে সরে আসেছে। বেশ কিছু দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মোরাটোরিয়াম’ ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে।

বিশ্বে পরিবর্তনের ধারা

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অনেক দেশ মনে করে, কঠোর শাস্তির পরিবর্তে আধুনিক বিচারব্যবস্থা, পুনর্বাসন ও মানবিক নীতির মাধ্যমে অপরাধ দমন আরও কার্যকর হতে পারে। অপরদিকে কিছু দেশ যুক্তি দেখায়—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় মৃত্যুদণ্ড এখনো প্রয়োজনীয়।

সমালোচনা ও বিতর্ক

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ এখনো স্পষ্ট। কেউ এটিকে ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত প্রতীক বলে মনে করে, আবার অনেকে বলে—রাষ্ট্রের হাতে জীবন নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয়। বিচারব্যবস্থার ভুল, নির্যাতন, রাজনৈতিক মামলার আশঙ্কা—এসব কারণে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news