মহিলাদের নাভীতে তেল মালিশ করার প্রথা বহু পুরোনো — এটি আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও লোকজ চিকিৎসায় একটি প্রচলিত পদ্ধতি। নাভী বা “নাভি চক্র” শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, কারণ জন্মের সময় এটি ছিল মায়ের সাথে সংযুক্ত নাড়ির স্থান, যার মাধ্যমে পুষ্টি যেত ভ্রূণের শরীরে।
নিচে এর কারণ ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো 👇
🩸 নাভীতে তেল মালিশের কারণ
-
রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে:
নাভীর চারপাশে অনেক সূক্ষ্ম স্নায়ু আছে। তেল মালিশ করলে এগুলো উদ্দীপিত হয়, ফলে রক্ত চলাচল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। -
ত্বক ও ঠোঁট আর্দ্র রাখে:
বিশেষত নারীরা শুষ্ক ত্বক বা ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় পড়েন। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে নাভীতে বাদাম বা নারকেল তেল দিলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকে। -
হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে:
আয়ুর্বেদ মতে, নাভীর মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন গ্রন্থি ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য হয়। ফলে মাসিকের অনিয়ম, পেটের ব্যথা বা পিএমএস উপসর্গ হালকা হতে পারে। -
পেটের গ্যাস ও হজমে সাহায্য করে:
সরিষা বা কালোজিরার তেল নাভীতে লাগালে হজমে সহায়তা করে, গ্যাস কমায়, এবং পেটের অস্বস্তি দূর করে। -
প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করে:
নারীদের ক্ষেত্রে নাভীতে তেল মালিশ জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অঞ্চলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে, যা প্রজনন ক্ষমতা ও মাসিক স্বাস্থ্যকে সহায়তা করতে পারে। -
মন শান্ত রাখে ও ঘুম বাড়ায়:
ল্যাভেন্ডার বা নারকেল তেল নাভীতে দিলে স্নায়ু শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং ভালো ঘুম আসে।
🌸 কোন তেল ভালো
-
বাদাম তেল → ত্বকের উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতার জন্য
-
নারকেল তেল → শীতল ও প্রশান্তিদায়ক
-
সরিষার তেল → ঠান্ডা-কাশি ও গ্যাসের সমস্যায় উপকারী
-
কালোজিরার তেল → রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
-
ল্যাভেন্ডার তেল (অ্যারোমা) → মানসিক প্রশান্তির জন্য
⚠️ সতর্কতা
-
নাভীতে তেল লাগানোর আগে হাত ও নাভী পরিষ্কার রাখুন।
-
একসাথে অনেক তেল ব্যবহার না করে একটি তেল নিয়মিত ব্যবহার করুন।
-
সংবেদনশীল ত্বক হলে অল্প করে পরীক্ষা করে নিন।
