বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাংলাদেশের একাধিক জেলায় বাউল শিল্পী ও তাদের অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য ও উদ্বেগজনক” বলে নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে কোনো মতভেদ বা সাংস্কৃতিক অসহমতি প্রকাশের বৈধ পথ হলো আলোচনা—সহিংসতা নয়।
দলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বাউল ও লালনভিত্তিক চর্চা এই দেশের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। এ ধারার মানুষদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর নয়, দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপরও আঘাত। এনসিপি বলেছে, “যে গোষ্ঠী এ ধরনের হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য যাই হোক—এটি রাষ্ট্রের আইন, মানবাধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দলটির দাবি, প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এনসিপি মনে করে, দেশের ইতিহাসে বাউল, ফকির ও তাসাওফ-অনুসারীরা সব সময়ই মানবতা, শান্তি ও সহনশীলতার শিক্ষা ছড়িয়েছে। তাদের ওপর আক্রমণ সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়। দলটি তাই সকল সম্প্রদায়কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংযমের মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতির মাধ্যমে এনসিপি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—সাংস্কৃতিক মতভেদ কখনোই সহিংসতার কারণ হতে পারে না, এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষা করা।
