মেয়েদের লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া জায়েজ আছে কি



❖ বিষয় : স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ মুখামুখি হওয়া (Oral Sex) ইসলামে বৈধ নাকি?

বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মিলন শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা পূরণ নয়—বরং এটি করুণা, ভালোবাসা, আবেগ ও পারস্পরিক সন্তুষ্টির এক পবিত্র সম্পর্ক। ইসলামে দাম্পত্য সহবাসকে বৈধ ও প্রশংসনীয় বলা হয়েছে, তবে তা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে।


🔷 কুরআন-হাদিসের মূল নির্দেশনা

১) স্ত্রীকে ভোগ করা হালাল

"তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেতে আসো..."
— (সূরা বাকারা: ২২৩)

এই আয়াত স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মিলনের ব্যাপক স্বাধীনতা নির্দেশ করে। তবে "যেভাবে ইচ্ছা" বলতে জায়েজ সীমার মধ্যে—অশালীন, অপ্রাকৃতিক ও ক্ষতিকর কিছু এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

২) স্পষ্ট হারাম

হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন—

পায়ুপথে সহবাস সম্পূর্ণ হারাম
❌ অপবিত্রতা গ্রাস, গিলন, বা এ থেকে উপকার গ্রহণ নিষিদ্ধ
❌ ক্ষতি বা যন্ত্রণা দেয়া আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয়

মুখমেহনের বিষয়ে সরাসরি নিষেধ বা অনুমতি কোন স্পষ্ট নাস নেই, তাই ফিকহবিদরা ইজতিহাদভিত্তিক মত দিয়েছেন।


🔷 আলেমদের মতামত

✦ ১) অনেক আলেম "মাকরূহ" বা পরিহারযোগ্য বলেছেন

কারণসমূহ—

  • লজ্জাস্থান থেকে অপবিত্রতা নির্গত হয়

  • মুখের মাধ্যমে তা স্পর্শ বা গিলে ফেলার ঝুঁকি থাকে

  • মানবিক মর্যাদা ও শালীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা

এরা বলেন, যদিও এটি সরাসরি হারাম নয়, তবে ইসলামের পরিশুদ্ধতা নীতি অনুসারে এ কাজ পরিহার করা উত্তম

✦ ২) কিছু আলেম শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেন

শর্তগুলো—

✔️ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে
✔️ অপবিত্র বস্তু মুখে নেওয়া বা গিলানো যাবে না
✔️ ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকা
✔️ গোপনীয়তা ও মর্যাদা বজায় রাখা

এ দৃষ্টিকোণে বলা হয়—যেখানে আল্লাহ নিষেধ করেননি সেখানে অনুমতি রয়েছে, তবে পরিচ্ছন্নতা ও নৈতিকতা অক্ষুণ্ণ থাকা শর্ত।


🔹 সারসংক্ষেপ

রায় ব্যাখ্যা
স্পষ্ট হারাম? ❌ না, সরাসরি হারাম প্রমাণ নেই
অধিক আলেমের মত ⚠️ মাকরূহ—পরিহারযোগ্য, উত্তম হলো না করা
কিছু আলেম বলেন ✔️ শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে
সর্বোত্তম নিয়ম 💠 পরিচ্ছন্নতা, সম্মান, পারস্পরিক সম্মতি ও সীমালঙ্ঘনহীনতা

💠 ইসলামের সুন্দর নির্দেশনা

বিবাহিত সম্পর্ক:

  • ভালোবাসা ও লজ্জা দিয়ে আবৃত

  • পরিচ্ছন্নতা ও সম্মান ভিত্তিক

  • পারস্পরিক তৃপ্তি নিশ্চিত করা উত্তম সুন্নাহ

রাসূল ﷺ বলেছেন—

"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।"
(তিরমিজি)

অতএব দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক রুচি, স্বাস্থ্যবিধি ও সম্মান বজায় রেখে—যা শারিয়াহ বিরোধী নয়—সেখানে দুজনের সুখ আল্লাহর রহমত।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Blog Archive

kaler khota, কালের কথা, নিউজ, news